নিজস্ব প্রতিবেদক;
মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে আরোপিত ১০টি শর্ত প্রত্যাহার, সৌদি আরবে পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী ২৪টি ভিসা পর্যন্ত সত্যায়ন ছাড়াই বহির্গমন ছাড়পত্র পুনর্বহাল এবং বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মামলাকারীর শাস্তির দাবি জানিয়েছে বায়রা সম্মিলিত সমন্বয় ফ্রন্ট।
বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেটের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও কিছু উপদেষ্টা কূটনৈতিক ক্ষেত্রে অপেশাদার আচরণ বজায় রেখেছেন, যা শ্রমবাজার নিয়ে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত তৈরিতে প্রভাব ফেলছে।
মালয়েশিয়া সরকার রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচনের জন্য যে ১০টি শর্ত দিয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব শর্ত মূলত সিন্ডিকেটদের নকশা বাস্তবায়নের অংশ, যাতে তারা নিজেদের পছন্দের এজেন্সিগুলোকেই চূড়ান্ত করতে পারে। নেপালের মতো ছোট দেশও যে শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে, সেখানে বাংলাদেশ কেন পারবে না—সেদিকেও তিনি ইঙ্গিত করেন।
তিনি আরও জানান, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই মালয়েশিয়ার এই শর্ত অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দিয়েছে, যাতে রয়েছে ১০ হাজার বর্গফুট অফিস, একই ঠিকানায় তিন বছরের অবস্থান, ন্যূনতম তিন হাজার কর্মী প্রেরণের প্রমাণ, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ নানা শর্ত। যা অধিকাংশ এজেন্সির পক্ষে পূরণ করা অসম্ভব। এতে শ্রমবাজার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
এ অবস্থায় তিনি সরকারকে পেশাদার কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য বাজার উন্মুক্ত করার দাবি জানান।
সৌদি আরবে বহির্গমন ছাড়পত্র জটিলতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সত্যায়নবিহীন ১-২৪ নম্বর ভিসার বহির্গমন ছাড়পত্র পুনঃচালু না হলে সৌদি শ্রমবাজারে কর্মী প্রেরণ আরও কমে যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল ইসলামের নামে দায়ের হওয়া মামলাকে ‘মিথ্যা, উদ্দেশ্যমূলক ও হয়রানিমূলক’ বলে দাবি করা হয়। বক্তারা বলেন, আসন্ন বায়রা নির্বাচনকে সামনে রেখে সিন্ডিকেট-সমর্থিত চক্র নির্বাচন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের দূরে রাখতে এ ধরনের মামলা করছে। মামলাকারী হিসেবে উল্লেখ করা রুল ইন্টারন্যাশনালের মালিক রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের সহযোগী হওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।
মামলার এজাহারে যেসব কর্মীর নাম রয়েছে, তাদের মালয়েশিয়া যাত্রার রেকর্ড বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী ভিন্ন এজেন্সির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানানো হয়। এতে মামলার অসঙ্গতি স্পষ্ট বলেও উল্লেখ করা হয়।
বক্তাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটবিরোধী অবস্থানের কারণেই ফখরুল ইসলামকে টার্গেট করা হয়েছে, এবং নির্বাচন সামনে রেখে আরও গায়েবী মামলা সাজানোর প্রস্তুতি চলছে।
সংগঠনটি এসব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং অবিলম্বে মিথ্যা মামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বায়রার সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার আহ্বান জানানো হয়।
Leave a Reply